
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টাঙ্গাইলের কোর্ট কমিশনার আব্দুল লতিফ-এর বিচার দাবিতে সখীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পৌরশহরের তালতলা চত্ত্বর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
জানাযায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন একতলা একটি দোকানের জমির মালিকানা নিয়ে মামলার একতরফা তদন্তের প্রতিবাদে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে কয়েকশত বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। এ সময় সখীপুর-ঢাকা ও সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে যানজট তৈরি হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আবদুল আজিজ তালুকদার সখীপুর মৌজার ১০৮ দাগের ১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবিতে টাঙ্গাইলের সখীপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। বাদী ওই ১ শতাংশ জমির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে আদালত সিভিল কোর্ট কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ জানুয়ারি সরেজমিন তদন্তে সখীপুর আসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু বলেন, বাদীপক্ষের দলিল মূলে প্রাপ্ত ১শতাংশ জমিতে থাকা পাকা ভবনটি ভাড়ায় চালাচ্ছেন। বাদীর বড়ভাই এমপি থাকাকালীন সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের এই পাকা ভবনের দোকান ঘরটি দখলের চেষ্টা করছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপনে সখীপুর আসেন। সখীপুর এসে শুধু বাদীর সঙ্গে দেখা করে গোপনে চলে গেছেন। কোন তদন্তই করেননি তিনি। আমরা ওই কর্মকর্তার বিচার ও শাস্তি দাবি করছি।
মামলার বাদী আবদুল আজিজ তালুকদার গনমাধ্যমকে জানান, দলিল মূলে ওই জমি ও ভবনের মালিক আমরা। জমির মালিকানা বলে আদালতে মামলা করেছি। আইনি প্রক্রিয়া লড়াই করে যাবো।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন গুর্খা বলেন, আমরা শামসুল হক ও আলম মিয়ার কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ করেছি। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন লাগোয়া দোকান ঘরটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অর্থায়নে নির্মিত। বাদীপক্ষ একই দাগের ভিন্ন খতিয়ান থেকে জমি কিনে তারাও পাকা ভবন নির্মাণ করে দখলে বিদ্যমান রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রশাসক ও ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় থাকবে — এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে ডিসি স্যারকে অবগত করা হবে।